ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৮, থাইল্যান্ডে আরও কঠোর হচ্ছে অস্ত্র আইন

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   12 বার পঠিত

এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৮, থাইল্যান্ডে আরও কঠোর হচ্ছে অস্ত্র আইন

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে এক কিশোরের এলোপাতাড়ি গুলিতে আটজন নিহতের ঘটনায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।

তিনি বলেছেন, জনসম্মুখে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন আইনে কেবল কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তাদের অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

শুক্রবার ভোরে নিজ ফ্ল্যাটে ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর। এরপর ৯ মিলিমিটারের পিস্তল ও কয়েক ডজন গুলি নিয়ে একটি সাধারণ স্কুলবাসে চড়ে ‘দেবসিরিন ননতাবুরি স্কুলে’ যায় সে।

সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রথম এবং ৯টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় ক্লাসে অংশ নেয় ওই কিশোর। দ্বিতীয় ক্লাস শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে সে।

স্কুলের ষষ্ঠ তলায় প্রথমে তিন শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করে ওই কিশোর। গোলাগুলির শব্দ শুনে কী হচ্ছে তা দেখতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন স্কুলের উপপরিচালক ও তার সচিব। তাদেরও গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে হামলাকারী কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারী নিজেই মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।

পুলিশ কর্নেল থাদসাকর্ন কনথং জানান, হামলায় ব্যবহৃত ৯ মিলিমিটারের পিস্তল ও গুলি তার দাদার বেডরুম থেকে নেওয়া হয়েছিল। পিস্তলটি লাইসেন্স করা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, “এমনটা ঘটা ঠিক হয়নি।”

তিনি বলেন, “আমি কেবল ভুক্তভোগীদের জন্য দুঃখিত নই, এমন ঘটেছে বলেও আমি দুঃখিত। আমাদের দেশে এটি কীভাবে ঘটতে পারে?”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় অনুতিন বেশ কিছু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন করেছিলেন। এর মধ্যে নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ওপর স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র আমদানিতে বিধিনিষেধও ছিল।

থাইল্যান্ডের পুলিশ প্রধান জেনারেল কিত্তিরত ফানফেত বলেন, ফরেনসিক দল নিশ্চিত করেছে যে হামলাকারী কিশোরের গুলির নিশানা অত্যন্ত নিখুঁত ছিল এবং ভুক্তভোগীদের শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে সরাসরি গুলি করা হয়েছিল।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ায় হামলাকারী কিশোর তার দাদা-দাদির কাছেই থাকত।

তার চাচা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিশোরটি বাইরে তেমন বের হতো না এবং দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে বসে সহিংস ভিডিও গেম খেলত। তবে তার মধ্যে যে এমন কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল, তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসি লিখেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের হাতে অস্ত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ অস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হাতে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখই অবৈধ। বেআইনি অস্ত্র বহনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও আইন প্রয়োগে তেমন কড়াকড়ি নেই।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৬ এএম | শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।